২৭,অক্টোবর-২০১৪ । 2:30am

বেশ কিছুক্ষন ধরে চোখের পাতাযুগলের উপর জবরদস্তি চালাচ্ছি কিন্তু তারা বারবারই তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই বিছানা ছাড়লাম।তারপরও অস্থিরতা কমছে না ।এদিক ওদিক করতে করতে চোখটা মেইনগেটের চাবিতে গিয়ে আটকালো । কোনকিছু না ভেবেই হাতে চাবিটা নিয়ে রুমের দড়জাটা আলতো করে খুলে এক পা দুই পা করে সিড়ি দিয়ে নামছি ,হঠাত খেয়াল করলাম আমি প্রচন্ড রকমের সাহসী হয়ে উঠেছি । যে ছেলে সন্ধ্যা ৬টার পর বাইরে থাকত না , যে ছেলে ভূত প্রেতে ভয় পায় সে কিনা রাত দুটোয় অন্ধকার সিড়িতে একা !!

বাসার সামনের খোলা মাঠটার এককোনে ছাউনির মতন আছে ।সেখানেই বসে আছি এখন । এলোমেলো চিন্তাভাবনা গুলো খুব দ্রুত মাথার ভেতর এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছে ।মাথায় সামান্য ব্যাথাও অনুভব করছি । হাল্কা হাল্কা বাতাস একটু পর পর এসে চোখে মুখে ঝাপটা দিচ্ছে ।ভালই লাগছে । এতকিছুর ভেতরেও একটা খারাপ লাগা থেকেই যাচ্ছে । কিছুতেই ভুলতে পারছি না । আচ্ছা এখন কি কাদা উচিত । নাহ থাক কাদবো না । ছেলেদের কান্না দেখার মত কেউ নেই । 

ঘটনাবহুল এই ছোট্র জীবনে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ঘটনা ঘটতেই থাকে।আর ঘটনাগুলো এত দ্রতু ঘটে যে ছোটখাট অতীত ঘটনা মনে রাখার অবকাশ আমাদের থাকেনা।কিন্তু হঠাত কোন একসময় ঘটনা গুলো যখন মনের কোনে দলবেধে এসে দাঁড়ায় তখন হয় সুখের সীমা থাকে না আর না হয় কষ্টে মরে যেতে ইচ্ছে করে । 
-আচ্ছা  তুমি কি এখন কাদছো ??
-খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তাই না ?? 
বিশ্বাস করো এতটা খারাপ আমি নই । তোমায় যতটা না কষ্ট দিয়েছি তার থেকে দিগুন কষ্ট আমি পাচ্ছি । কোন কিছুই আজ পর্যন্ত সিরিয়াসলি নেই নি । তোমাকে কেন এতটা সিরিয়াস ভাবে নিয়েছি জানি না । জানতেও চাই না । 
যতবার আমি পুড়েছি ,তার জ্বলনটা ততবারই তুমি অনুভব করেছো । সবসময়ই নিজেকে খুব ছোট লাগে ।এতো কিছুই না ,আমি জানি আমার জন্য হয়ত খুব বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে । যেদিন পাবো সেদিন একটু শান্তি অনুভব করবো ।


 অনেক না বলা কথা ছিলো , ভেবেছিলাম তোমায় ছাদের রেলিং এ বসিয়ে  তোমার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রাখবো যখন  তুমি দেখবে যে সাহসের অভাবে যখন কথাগুলো  জড়িয়ে যাচ্ছে  তখন আমার হাতটা খুব শক্ত করে চেপে ধরবে আর আর দুষ্টু মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে  বলবে এখন বলো।দুনিয়ার সমস্ত সুখ থাকবে তখন আমার পায়ের তলায় । 

লিরা জানো তুমি দিন দিন অনেক বদলাচ্ছ । আজকাল কথায় কথায় হেয়ালি কর , দিন দিন কেমন যেনো জটিল হয়ে যাচ্ছ তুমি ।কয়েকমাস আগের লিরাটাও বড্ড বেশি সহজ সরল ছিলো । কিন্তু তোমার ভেতর একটা ছেলেমানুষি ভাব আছে । তুমি চাইলেও হয়ত দূর করতে পারবে না । এই ছেলেমানুষিটার জন্যই তোমার উনি তোমায় খুব ভালবাসবে । মিলিয়ে নিও । 




নাহ আর ভাবতে ইচ্ছে করছে না । আমার স্বপ্ন গুলো রং পাবে না কোন দিন জানি ।তোমায় নিয়ে খুব বেশি ভাবি না , যতটুকু ভাবি ততটুকু  কেউ কোনদিন কারও জন্য ভেবেছি কি না  জানি না । 
-আচ্ছা পারবে ভুলে যেতে আমায় ??
 ভুলবেই বা না কেন !!
কখনো তো আমার দেবী কে ভালবাসার ফুল দিয়ে অঞ্জলি দেই নি । 
যতটা কষ্ট ছিলো ,দেবীর পায়ে ঢেলে দিয়েছি। 
শোন -পারলে ক্ষমা করে দিয়ো । 
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
তুমি চোখ মেললেই ফুল ফুটেছে আমার ছাদে এসে
ভোরের শিশির ঠোঁট ছুঁয়ে যায় তোমায় ভালবেসে
আমার ক্লান্ত মন,ঘর খুঁজেছে যখন
আমি চাইতাম পেতে চাইতাম শুধু তোমার টেলিফোন
ঘর ভরা দুপুর
আমার একলা থাকার সুর
রোদ গাইতো,আমি ভাবতাম তুমি কোথায় কতদূর
আমার বেসুর গীটার সুর বেঁধেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
আমার একলা আকাশ চাঁদ চিনেছে তোমার হাসি হেসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
অলস মেঘলা মন, আমার আবছা ঘরের কোণ
চেয়ে রইত,ছুঁতে চাইতো, তুমি আসবে আর কখন
শ্রান্ত ঘুঘুর ডাক,ধুলো মাখা বইয়ের তাক
যেন বলছে,বলে চলছে, থাক অপেক্ষাতেই থাক




0 comments:

Post a Comment