- কিরে তিথী একা কেন তুই ? তোর সাথেরটা কই ?
** আমার সাথেরটারে দিয়া কি করবি ??? নিজের কথা নিজ থেকে বলতে নাই আরেকজনরে দিয়া বলাতে হয় । আমারে বল আমি বলে দিবো নে । ওরে যতটুকু চিনি প্রথমে একটু ......
- থামবি তুই ?
** (ডান পাশের ভ্রূটা উচিয়ে)ওমা ... আমার সামনে এই ১২মাসে তুই যতবার পরছিস কথা শুরু হয় "তোর সাথেরটা কই দিয়া" আবার ফেইসবুকেও তো তোমার ইটিশ পিটিশ ভালই চলে ফেবু আমি চালাই না দেইখা মনে হয় জানি না ।
( ঋভু উঠে চলে যেতে লাগলে তিথী বলে উঠে নিচ তলার লেডিস ওয়াশ আছে চিকনিটা , যা ঐহানে যায়া খাড়ায়া থাক । )
- তিথী তোর কথা শুনলে নরমাল মানুষেরও বিপি হাই হয়ে যাবে । আর তোর পাশে আমি বেশিখন থাকলে আমার জেলে যাইতে হবে ।আমার উষ্টা খাইতে খাইটে মইরা গেলে পরে আঙ্কেল আমারে ...... গ্রাজুয়েশডা কমপ্লিট করি দ্যান হারামী তোরে উষ্টায়া জেলে যামু ।
--------------------------------------------------------------------------------------
১০ মিনিট পর নন্দিতার সাথে ঋভু কথা বলতে বলতে তিথী যেখানটায় বসে ছিলো সেখানটায় আসে ।
তিথী বসে বসে গিফট খুলে খুলে দেখছে ।
ঋভুর হাতে লাল খাম দেখে তিথী জিজ্ঞেস করে তোরে লাভ লেটার কে দিলোরে চকলেট বয় ?
ঋভুঃ দেয়ার মানুষের অভাব আছে নাকি :p
তিথী তিন নাম্বার গিফটা খুলেই হা ......... আর্ট পেপারে লেখা একটা লেটার ।
নন্দিতা পড়ছে , ঋভু আর তিথী হা করে গিলছে ।
লাইন গুলো কিছুটা এমনঃ
তিথী তোমাকে দেখলেই কেমন যেনো হয়ে যাই ..বলতে পারো আমানুষ থেকে মানুষ ...চারা থেকে বড় গাছ । সত্যিই তোমায় দেখার পর মনে হয় অনেকটা বড় হয়ে গেছি ................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
ঋভু হাতের খামটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে । তা দেখে
তিথীঃ চিটারি বাটপারী চলবে না । আমার লাভ লেটার শোনা হইছে এখন ঋভু যেইটা পাইছে আমরা ওইটা পড়বো । না পড়তে দিলে আইজকা ঋভুর শার্ট ছিড়া বাড়িতে পাঠামু ......(বান্দ্রামী স্বভাব গুলো তিথীর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া) ।
ঋভুর হাত থেকে খাম টান দিয়ে নেয়ার পর খামের উপরের লেখা গুলো চোখে পড়ে ......
তিথী,
তোরে জন্মদিনের অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক
অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক
খামের এপিঠ ওপিঠ জুড়ে শুধু "অনেক" শব্দটাই লেখা "শুভেচ্ছা" লেখার আগেই খামের উপরের জায়গা শেষ।
তিথীঃ ঋভূ থ্যঙ্কস দিয়ে যখন খামটা খলতে যাবে তখন -
ঋভুঃ এখন খুলিস না । বাসায় নিয়ে খুলিস খামটা । অনুরোধ। এখন রাখা বা না রাখা তোর ব্যাপার ।
ঋভুর সবচেয়ে খারাপ একটা গুন হলো যে কোন মানুষ কে নিজের কথা শুনতে বাধ্য করাতে পারে ।
======================================================
তিথী বারান্দায় বসে
প্রথমে বাবার দেয়া খামটা খুলে ---
পিচ্চি ,
( সম্বোধন সূচক শব্দটা পড়েই তিথীর ঠোট প্রসারিত হয়ে যায় ।)
এই ডাকটা শুনলে তোর মা এর এক্সপ্রেশনও চেইঞ্জ হয়ে যেতো । তোরও একই অবস্থা । এখন যে হাসিটা তোর ঠোটে এই হাসির মত যেন সুন্দর হয় তোর জীবনের প্রতিটা মূহুর্ত। আজকের এই দিনে তোর মা যুদ্ধে পরাজিত হয়েও আমাকে নতুন একটা ভূ-খন্ডের রাজা ঘোষনা করে দিয়ে গেছে । প্রথম প্রথম ভাবতাম আমার সাম্রাজ্য সম্ভবত ছোট হয়ে গেলো , কিন্তু না ,ও আমার সাম্রাজ্যকে .........
ভালোবাসি :)
আমার মেয়েটাকে অনেকটা অনেকটা ভালবাসি ।
ইতি
তোর পিচ্চি ।
------------------------------------------------------------------------------------
চোখ মুছতে মুছতে ঋভুর খামটা খোলে...
------------------------------------------------------------------------------------
দেখ তিথী তুই ছাড়া তোরে ডকার কিছু খুজে পাচ্ছি না । স্পেশাল মানুষদের স্পেশাল ভাবে ডাকতে হয় । স্পেশাল বলার করন হচ্ছে আজকের দিনটা সবার জন্য স্পেশাল আর এই দিনে স্পেশাল স্পেশাল মানুষ জন্ম নেয় তাই..................... অন্য কিছু থিঙ্ক করিস না ।
কয়েকটা প্রশ্ন করি উত্তর দিবি ঠিক ঠিক-----
তুই কি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে অসীম আকাশ দেখেছিস?
খুব একা লেগেছিলো কি তখন নিজেকে ?
কোন খারাপ সময়ে এমন মনে হয়েছি কি এমন কাউকে দরকার যার বুকে নাক ডুবিয়ে নাক টেনে টেনে কাদতে পারিস ?
আকাশ কালো হয়ে আসলে কি তোর মনেও মেঘ জমে ?সেই মেঘে ভিজিয়ে দিতে ইচ্ছে করে না কখনো খুব কাছের কাউকে?
ঝুম বৃষ্টিতে বৃষ্টি ফেলে কেউ তোর চোখের পানি নিয়েই গবেষনা করুক এমন কাউকে চাস নি কখনো ?
খুব করে ঝগড়া করতে ইচ্ছে করে না কখনো কারো সাথে ?ঝগড়ায় যখন হেরে যাবি যাবি অবস্থা তখন কারো পাশে বসে তার কাধে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে হারিয়ে দেয়ার ফরমূলা এপ্লাই করতে মন চায় নি কখনো ?
সাতার না জানা সত্ত্বেও নৌকায় ভাসতে ইচ্ছে হয় না তোর ?
-হয় যে জানি ।
এমন কাউকে কখনো খুজেছিস যার হাত ধরে ভাংগা নৌকা নিয়েও ভয়হীন হয়ে সাগর পারি দিতে পারবি ?
তোর জন্ম দিনে তেমন কিছু দেবার মত নেই । তাই নিজেকেই দিচ্ছি । উপহার ফেরত দিতে নেই । এখন রাখবি নাকি ফেলে দিবি তোর ব্যাপার।
ভালবাসি :)
0 comments:
Post a Comment